Trending

জীবনের জন্য পানি (Another name for life is water)


জীবনের জন্য পানি (Another name for life is water)

জীবনের জন্য পানি (Another name for life is water)

পানির অপর নাম জীবন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানির ব্যবহার অপরিহার্য।  তাই নিম্নে পানির নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

পানির গঠন :

পানির গঠন জানতে হলে আমাদের সর্বপ্রথম আমাদের পানির ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে। এবং পানির ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আমাদের পানির স্ফুটনাঙ্ক, গলনাঙ্ক ও তড়িৎ পরিবাহিতা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে।

পানির স্ফুটনাঙ্ক:

 সাধারণত আমরা জানি  নির্দিষ্ট চাপে যে তাপমাত্রায় কোন তরল পদার্থ  ফুটতে শুরু করে সেই তাপমাত্রাকে ওই পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক  বলে। 

পানি 100 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে। তাই পানির স্ফুটনাঙ্ক 100 ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

পানির বিদ্যুৎ পরিবাহিতা:

পানি এক ধরনের পোলার সমযোজী যৌগ।এসকল পোলার সমযোজী যৌগে আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত থাকে। আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত থাকার কারণে পানি সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহন করে থাকে।

পানির  গলনাঙ্ক :

বরফ ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে।যেহেতু  বরফ ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে সেহেতু পানির  গলনাঙ্ক ০ডিগ্রী সেলসিয়াস। 


পানিতে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে।  দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু পরস্পরের সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে। এই বন্ধনকে সমযোজী বন্ধন বলে।যেহেতু পানি একটি পোলার সমযোজী যৌগ তাই এর আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত থাকে।আংশিক ধনাত্মক ও আংশিক ঋণাত্মক প্রান্ত থাকার কারণে পানি সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহন করে থাকে।

পানির উৎস :

সাধারণত বিভিন্ন ধরনের উৎস থেকে আমরা পানি পেয়ে থাকি। যেমন ভূগর্ভস্থ পানি, নদী-নালার পানি,খাল-বিলের পানি, সমুদ্রের পানি ও বৃষ্টির পানি ইত্যাদি ইত্যাদি। 
তবে আমরা যে পানি পান করি সেই সুমিষ্ট পানি ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের মেশিন ও টিউবওয়েল ব্যবহার করে থাকি।
এছাড়াও খাল-বিল, নদী-নালা ও সমুদ্রের পানি আমাদের পান যোগ্য নয়।
 তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের জীবনধারণের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করতে হয়।
অপরদিকে কৃষি ক্ষেত্রে আমরা সমুদ্রের পানি অর্থাৎ লবণাক্ত পানি ব্যতীত সকল পানি ব্যবহার করতে পারি।

 জলজ উদ্ভিদ:

সাধারণত যে সকল উদ্ভিদ পানিতে জন্মায় তাদের জলজ উদ্ভিদ বলে। যেমন ক্ষুদেপানা, টোপাপানা, কচুরিপানা, হেলেঞ্চা, শাপলা ইত্যাদি। 
এরা সবাই জলজ উদ্ভিদ। অর্থাৎ পানিতেই এদের জীবন মরণ বংশবৃদ্ধি সব হয়ে থাকে। তাই এসব উদ্ভিদ স্বাভাবিকভাবেই পানির উপর নির্ভর করে জীবন ধারন করে।

পানির মানদন্ড :

বিশুদ্ধতা নির্ণয় করার জন্য পানির মানদন্ড চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ পানির বর্ণ ও স্বাদ,তাপমাত্রা, পানির Ph,তেজস্ক্রিয়তা,লবনাক্ততা ইত্যাদি জানতে হবে। এই জিনিসগুলো পানিতে  উপস্থিত থাকলে পানিটা কতটুকু বিশুদ্ধ বা কতটুকু দূষিত তা নির্ণয় করাই হলো পানির মান

পানির পূণরাবর্তন:

আমরা প্রায় সকলেই পানি চক্রের নাম শুনেছি।এটা হচ্ছে  বৃষ্টির পানি  যখন মাটিতে পড়ে তখন আবার সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে উপরে চলে যায়। এবং পরবর্তীতে বৃষ্টির মাধ্যমে  সেটা আবার  নিচে নেমে আসে। এই চক্রাকার প্রক্রিয়াটাই হলো পানির পূণরাবর্তন।এই চক্রটি আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া :

পানি বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে 

বিশুদ্ধকরণ করা হয়। যেমন :পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন,স্ফুটন ও পাতন ইত্যাদি। 

পানি বিভিন্ন ধরনের পদার্থ দ্বারা দূষিত হতে পারে। এখানে  অনেক ধরনের সাবস্টেন্ড রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্কারি,লেড,আর্সেনিক ইত্যাদি। 

মার্কারি ব্যবহার করলে  আামাদের মস্তিষ্কে,লিভারে ও কিডনিতে বিষাক্ততা হতে পারে। লেড ও একধরনের বিষাক্ত পদার্থ। 

এছাড়া  বাংলাদেশে অতি প্রয়োজনীয় বিষাক্ত পদার্থ হলো আর্সেনিক বাংলাদেশে একটা সময় আর্সেনিক এর খুবই ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেছিল।
অনেক জায়গায় নলকূপের মুখ  লাল রং দিয়ে চিন্তিত করা হয়েছিল। এই আর্সেনিকএর কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। 

পানির উৎসে হুমকি :

১.বন্যা
২.নদিভাঙন
৩.পানির গতিপথ পরিবর্তন  ইত্যাদি। 



   

 

Post a Comment

Previous Post Next Post

যোগাযোগ ফর্ম